প্রকাশিত: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ , ০৯:১৮ এএম
অনলাইন সংস্করণ
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক অবিশ্বাস্য হুমকি দিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, কাতারে অবস্থানরত হামাসের শীর্ষ নেতাদের সরিয়ে দেওয়া হলেই গাজায় সব জিম্মি মুক্তি পাবে এবং যুদ্ধ শেষ হবে। নেতানিয়াহুর এই বক্তব্যে স্পষ্ট যে, কাতার ও আরব বিশ্ব যদি এবারও প্রতিরোধ গড়ে না তোলে, তবে ভবিষ্যতে এই অঞ্চলের জন্য আরও কঠিন সময় অপেক্ষা করছে।
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কেন্দ্রে কাতার
কয়েক দশক ধরে কাতার নিজেদের অন্যতম ধনী রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বে স্বীকৃতি পেয়েছে। সেই কাতার এখন আঞ্চলিক উত্তেজনার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। ইরান-ইসরায়েল সংঘাতেও কাতারের আল উদেইদ ঘাঁটিতে হামলা চালায় ইরান। তবে এবার ইরান নয়, ইসরায়েল সরাসরি কাতারে হামলা চালিয়েছে। হামাস নেতাদের লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়ে দেশটি সব সীমা লঙ্ঘন করেছে। নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করতে ইসরায়েল বারবার কাতারে আঘাতের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে কাতার ও আরব দেশগুলো ইসরায়েলকে কীভাবে উচিত শিক্ষা দেওয়া যায়, সেই পথ খুঁজতে আলোচনা করছে।
আরব বিশ্বের প্রতিক্রিয়া ও সম্ভাব্য পদক্ষেপ
গাজা যুদ্ধের কারণে উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো বর্তমানে আতঙ্কিত। দুই বছর আগে সীমান্ত থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে শুরু হওয়া এই যুদ্ধের আঁচ এখন আরবদের গায়েও লাগছে। কাতার এই হামলার সামরিক জবাব দিতে পারতো, কিন্তু তার বদলে দেশটি সম্মিলিত আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
সম্মিলিত প্রতিক্রিয়া: কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুল রহমান আল-থানি সিএনএন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন যে, প্রতিক্রিয়ার বিষয়টি অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে নির্ধারিত হবে। এই সপ্তাহের শেষে দোহায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আরব ইসলামিক শীর্ষ সম্মেলনে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
কূটনৈতিক বিকল্প: ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক বিকল্প হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে তাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক কমানো অথবা আব্রাহাম চুক্তিতে অংশগ্রহণ সীমিত করার বিষয়টি আলোচিত হতে পারে। দোহার ওপর হামলার আগেও ইসরায়েলের পশ্চিম তীর নীতি নিয়ে আমিরাত অসন্তোষের ইঙ্গিত দিয়েছিল।
সামরিক বিকল্প: বিশ্লেষকরা বলছেন, আরেকটি বিকল্প হতে পারে কাতার মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা থেকে সরে আসা। এছাড়া, আরব দেশগুলো মিলে একটি ঐক্যবদ্ধ উপসাগরীয় কমান্ড তৈরি করে বিমান ও মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে এক করতে পারে। মিশরের ন্যাটো ধাঁচে একটি আরব বাহিনী গড়ে তোলার প্রস্তাবও এই সম্মেলনের একটি এজেন্ডা হতে পারে।