গণকণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৫ আগস্ট ২০২৫ , ০২:১৪ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

#

২০ মাস বন্ধ যমুনা সার কারখানা, ইউরিয়া সংকট ঝুকিতে কৃষক

 জামালপুরের সরিষাবাড়ীর তারাকান্দিতে প্রতিষ্ঠিত যমুনা সার কারখানায় গ্যাস সংকটের কারণে প্রায় ২০ মাস যাবৎ ইউরিয়া সার উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এর ফলে যমুনার কমান্ড এরিয়ায় চলতি ভরা আমন মৌসুমে সার সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, পাশাপাশি কারখানার সঙ্গে যুক্ত প্রায় তিন হাজার শ্রমিক পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। দীর্ঘ সময় কারখানা বন্ধ থাকার কারণে ২০ মাসে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।


১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কারখানা জামালপুর, শেরপুর, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ এবং উত্তরাঞ্চলের দুই বিভাগের ১৬টি জেলাসহ প্রায় ২১টি জেলায় সার সরবরাহ করে আসছিল। দেশের সকল জেলার চাহিদা মেটাতে যমুনার সারের গুরুত্ব অপরিসীম। কারখানার বন্ধ থাকার কারণে শ্রমিকদের জীবনযাত্রা থমকে গেছে, এবং দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকায় মুল্যবান যন্ত্রাংশও মরিচা ধরে নষ্ট হওয়ার উপক্রম। চলতি মাসে যদি কারখানা চালু না করা হয়, তবে চলতি আমন পিক সিজনে সার সংকট দেখা দিতে পারে বলে কৃষকরা আশঙ্কা করছেন।


বাংলাদেশ রাসায়নিক শিল্প সংস্থা (বিসিআইসি) নিয়ন্ত্রণাধীন কেপিআই-১ মানসম্পন্ন যমুনা সার কারখানাটি প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে দৈনিক ১,৭০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদন করতো। নিরবিচ্ছিন্ন উৎপাদনের জন্য দৈনিক ৪২-৪৩ পিএসআই গ্যাসের প্রয়োজন। তবে গ্যাসের চাপ স্বল্পতা ও অন্যান্য ত্রুটির কারণে বর্তমানে উৎপাদন কমে ১,৪০০/৪৫০ মেট্রিক টনে নেমে এসেছে। ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি নিরবিচ্ছিন্ন উৎপাদনের জন্য যমুনা কারখানায় গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে দেয় তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি ২৪ জানুয়ারি ২০২৪ থেকে। এর পর থেকেই যমুনার উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।


কারখানার নির্মাতা জাপানি প্রতিষ্ঠান (এমএইচআই) ২৫ বছরের সক্ষমতার কথা জানিয়েছিল, তবে ৩৪ বছর অতিবাহিত হলেও কারখানাটি যথেষ্ট সক্ষম। নিরবিচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ হলে বছরে ৪ লাখ মেট্রিক টন সার উৎপাদন সম্ভব, যা দেশের বাইরে থেকে সার আমদানি কমাতে এবং সরকারের ভর্তোকির ব্যয় কমাতে সাহায্য করবে। সম্প্রতি কারখানার একটি যান্ত্রিক ত্রুটি সারিয়ে গ্যাস সংযোগ দিলে ৭ দিনের মধ্যে উৎপাদন শুরু করা সম্ভব। তবে কিছু দিন চালু রাখার পর পুনরায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করা হয়েছে।


কারখানাটি রাসায়নিক প্রক্রিয়ার কারণে করোসেন ও ইরোসেনের ক্ষতিসাধনের ঝুঁকিতে রয়েছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে যন্ত্রাংশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। কারখানার উপমহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন জানান, মাননীয় চেয়ারম্যান সম্প্রতি কারখানা পরিদর্শন করেছেন এবং আগামী এক-দেড় মাসের মধ্যে গ্যাস সংযোগ দিয়ে উৎপাদন শুরু করার আশ্বাস দিয়েছেন।


উত্তরাঞ্চলের কৃষি নির্ভর ১৬টি জেলায় স্বল্প সময়ে ন্যায্যমূল্যে সার সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য স্থানীয় কর্মকর্তা, কর্মচারী, শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের উর্দ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করে দ্রুত গ্যাস সরবরাহের মাধ্যমে যমুনা সার কারখানার পুনঃউৎপাদন শুরু করার দাবি জানাচ্ছেন।